সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়: পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের SIR প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বৈধ, জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত


নয়াদিল্লি / কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বহুচর্চিত স্পেশাল ইনফরমেশন রিপোর্ট (SIR) বা ভোটার তালিকা যাচাইকরণ মামলায় এক ঐতিহাসিক রায় দিল দেশের সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বিশেষ বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ আইনসম্মত এবং ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরির জন্য অত্যন্ত জরুরি। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মূল পয়েন্ট:
কমিশনের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে: শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে এসআইআর (SIR) পরিচালনা করার সম্পূর্ণ আইনি এক্তিয়ার রয়েছে।
প্রক্রিয়াটি বেআইনি নয়: সাধারণ প্রক্রিয়া থেকে কিছুটা আলাদা হলেও, এই ভোটার স্ক্রুটিনিকে কোনোভাবেই বেআইনি বলা যায় না।
নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রশ্ন: ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা বা তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাই করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ারে পড়ে কি না—তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখেছে আদালত।
আদালতের ৪টি মূল আইনি প্রশ্নের উত্তর: ১) নির্বাচন কমিশনের কি এসআইআর (SIR) করার ক্ষমতা আছে? ২) এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য কি বৈধ ও যুক্তিযুক্ত? ৩) এই প্রক্রিয়া কি জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের পরিপন্থী? ৪) সংবিধান মেনে কমিশন কি নির্দিষ্ট তথ্য বা নথি দাবি করতে পারে? আদালত এই সমস্ত প্রশ্নের ইতিবাচক উত্তর খুঁজে নির্বাচন কমিশনের পাশেই দাঁড়িয়েছে।
৮০ লক্ষ গরমিলে বড় চ্যালেঞ্জ ও ভিনরাজ্যের বিচারক
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় প্রায় ৮০ লক্ষ তথ্যগত অসঙ্গতি (Logical Discrepancies) এবং আনম্যাপড তালিকা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ লক্ষ দাবি স্ক্রুটিনি করার জন্য ২৫০ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কাজের বিপুল চাপের কারণে সুপ্রিম কোর্ট ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে ১০০ জন করে বিচারক এনে এই কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছে। রাজ্যের তরফে ভাষাগত সমস্যার যুক্তি তোলা হলেও, নিখুঁত ভোটার তালিকা তৈরিতে কোনো আপস করতে রাজি হয়নি সুপ্রিম কোর্ট।




Comments