
সম্পাদকীয়: ভোটার তালিকার আগে আস্থার তালিকা বাঁচান
সম্পাদকীয়: ভোটার তালিকার আগে আস্থার তালিকা বাঁচান
ভারতের নির্বাচন কমিশন বলছে—SIR-সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত। কমিশনের দাবি, দুই নির্বাচন কমিশনারের লিখিত আপত্তি ছিল স্বাভাবিক অভ্যন্তরীণ আলোচনার অংশ; এগুলিকে “বিরোধ” বা “বিদ্রোহ” হিসেবে দেখানো ঠিক নয়।
কিন্তু প্রশ্ন হল, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ভিতরে বারবার লিখিত আপত্তি উঠলে সেটিকে নিছক প্রশাসনিক রুটিন বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া যায় কি?
২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী প্রায় দশ মাসে অন্তত ১৪ বার ভোটার তালিকা, Form 6, ভোটার-ডেটাবেস, IT নিয়ন্ত্রণ এবং পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তি বা বর্জনের বিরুদ্ধে আপত্তি নথিবদ্ধ করেছিলেন।
এখানে বিষয়টি “দুই বনাম এক” ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব কি না, সেটি আসল প্রশ্ন নয়। আসল প্রশ্ন হল—নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত কি আইনসম্মত, স্বচ্ছ এবং পূর্ণাঙ্গ কমিশনের অনুমোদনে নেওয়া হয়েছিল?
যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে কমিশনের কাছে এখন নথি প্রকাশ করা ছাড়া আর কোনও যুক্তিসঙ্গত পথ নেই।
প্রশ্নটি শুধু মতবিরোধের নয়
একটি বহু-সদস্যের প্রতিষ্ঠানে মতবিরোধ স্বাভাবিক। কমিশনের বক্তব্য এই অর্থে সঠিক যে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রশ্ন, আপত্তি, প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও সংশোধনী আলোচনা চলতেই পারে।
কিন্তু এই যুক্তি তখনই গ্রহণযোগ্য, যখন প্রতিষ্ঠানটি দেখাতে পারে:
- আপত্তি কী ছিল।
- কে তা বিবেচনা করেছিল।
- কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
- সিদ্ধান্তটি কে অনুমোদন করেছিল।
- সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা তা কীভাবে বাস্তবায়ন করেছিলেন।
শুধু “শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মতি ছিল” বললেই প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছ হয়ে যায় না।
একটি সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মত হতে পারে। কিন্তু তার আগে যদি কমিশনের নামে অনুমোদনহীন চিঠি জারি হয়, আইনগত ফর্ম বদলে দেওয়া হয়, রাজ্য আধিকারিকদের সফটওয়্যার-প্রবেশাধিকার সীমিত হয়, অথবা পূর্ণাঙ্গ কমিশনকে না জানিয়ে প্রশাসনিক কাঠামো বদলে যায়—তাহলে সেই ঘটনাগুলির স্বাধীন ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে শুধু ফল নয়, প্রক্রিয়াটিও গুরুত্বপূর্ণ।
Form 6: একটি ঘর, একটি অধিকার
Form 6 কোনও সাধারণ প্রশাসনিক ফর্ম নয়। এটি নতুন ভোটারের নির্বাচনী ব্যবস্থায় প্রবেশের দরজা।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর অনুসন্ধান অনুযায়ী, SIR-সংক্রান্ত একটি অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র ফর্মে যুক্ত করা হয়েছিল। আবেদনকারীকে নিজের, বাবা-মা অথবা দাদু-ঠাকুমার নাম আগের SIR-এর ভোটার তালিকায় ছিল কি না, তা জানাতে বলা হয়।
দুই কমিশনারের আপত্তি ছিল, Registration of Electors Rules, 1960-এর অধীনে নির্ধারিত একটি আইনগত ফর্মকে এইভাবে বদলাতে হলে যথাযথ নিয়ম সংশোধন দরকার।
এই আপত্তির উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও উদ্বেগজনক বিষয়, প্রশ্নটি “বাধ্যতামূলক নয়” বলা হলেও অনলাইন ফর্মটি সেই ঘর পূরণ না করলে জমা দেওয়া যাচ্ছিল না বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এটি ডিজিটাল প্রশাসনের পরিচিত সমস্যা—কাগজে একটি শর্ত ঐচ্ছিক, কিন্তু সফটওয়্যারে তা বাধ্যতামূলক। সাধারণ নাগরিকের কাছে দুটির মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই।
একজন ১৮ বছর বয়সী নতুন ভোটারের কাছে প্রশ্নটি অযৌক্তিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে। তাঁর নিজের নাম পুরনো তালিকায় থাকার কথা নয়। বাবা-মা হয়তো অন্য রাজ্য থেকে এসেছেন। দাদু-ঠাকুমার নাম হয়তো ভুল বানানে রয়েছে, অথবা পুরনো তালিকা কখনও ডিজিটাইজডই হয়নি।
ভোটার হওয়ার অধিকার কি তবে পারিবারিক ইতিহাসের ডিজিটাল প্রমাণের উপর নির্ভর করবে?
নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে:
- Form 6 বদলানোর সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিল?
- পূর্ণাঙ্গ কমিশন তা অনুমোদন করেছিল কি না?
- কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নিয়ম সংশোধনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল কি না?
- কতদিন এই পরিবর্তিত ফর্ম চালু ছিল?
- কতজন নতুন ভোটার এর মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন?
- কারও আবেদন কি এই প্রশ্নের কারণে আটকে ছিল?
সফটওয়্যার যেন নতুন নির্বাচন কমিশন না হয়ে ওঠে
SIR-এর সবচেয়ে গুরুতর দিকটি হয়তো কোনও চিঠি বা ফর্ম নয়—ডেটাবেসের ভিতরে লুকিয়ে থাকা ক্ষমতা।
আইন অনুযায়ী, ভোটার তালিকা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন Electoral Registration Officer বা ERO। কিন্তু বাস্তবে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হয় ERONet বা ECINet-এ।
এখানে বিপদটি স্পষ্ট।
একজন ERO যদি কোনও ভোটারকে যোগ্য মনে করেন, কিন্তু সফটওয়্যারে নাম পুনর্বহালের ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে আইনগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে কীভাবে?
গোয়ার ঘটনা এই প্রশ্নকে বাস্তব রূপ দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ERO-রা ৯৭ জন ভোটারকে তালিকায় থাকার যোগ্য বলে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সফটওয়্যারে আগের বর্জন উল্টে দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় সেই সিদ্ধান্ত নথিভুক্ত করা যায়নি। গোয়ার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর ১১ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আটবার rollback facility চেয়েছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত যোগ্য বলে বিবেচিত ওই ভোটাররা চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি বলে অভিযোগ।
এটি ইচ্ছাকৃত বর্জনের প্রমাণ নয়। কিন্তু এটি একটি ভয়াবহ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার প্রমাণ হতে পারে।
যে সিস্টেমে নাম বাদ দেওয়া যায়, কিন্তু যোগ্য প্রমাণিত ভোটারের নাম ফেরানো যায় না, সেই সিস্টেম নিরপেক্ষ নয়—তার কাঠামো বর্জনের দিকে ঝুঁকে থাকে।
ডিজিটাল ব্যবস্থা কখনও আইনকে প্রতিস্থাপন করতে পারে না। বরং সফটওয়্যারকে এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে আইনগত আধিকারিকের প্রতিটি সিদ্ধান্ত—বিশেষত সংশোধন ও পুনর্বহাল—বাস্তবায়ন করা যায়।
পশ্চিমবঙ্গের প্রশ্ন আরও কঠিন
পশ্চিমবঙ্গে SIR-এর প্রভাব ছিল বিপুল।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারকে “logical discrepancy” বা যুক্তিগত অসঙ্গতির ভিত্তিতে পরীক্ষা করা হয়। প্রায় ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়ে। পরে কমিশন সুপ্রিম কোর্টকে জানায়, ৩৮.৩১ লক্ষ আপিল জমা হয়েছে।
এর মধ্যে:
- ২২.২১ লক্ষ বাদ পড়া ভোটারের নাম ফেরানোর আবেদন।
- ১৬.১০ লক্ষ অন্তর্ভুক্ত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন।
প্রথম ২২ লক্ষ আবেদন নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বিষয়টি পরিষ্কার: নাম বাদ পড়া ভোটাররা তাঁদের অধিকার ফেরত চাইছেন।
কিন্তু ১৬.১০ লক্ষ আপিল কে করলেন? কে অনুমোদন করলেন? কার নির্দেশে অন্তর্ভুক্ত বা পুনর্বহাল হওয়া ভোটারদের বিরুদ্ধে আপিল করা হল?
এই প্রশ্নই সান্ধু তুলেছেন বলে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে।
এখানে নির্বাচন কমিশনের নীরবতা অস্বস্তিকর। একটি সাংবিধানিক সংস্থা যদি ১৬ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য আপিল করে থাকে, তাহলে প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি থাকা উচিত:
- আবেদনকারীর পরিচয়।
- অনুমোদনকারী আধিকারিক।
- দাখিলের আইনগত ভিত্তি।
- সংশ্লিষ্ট ভোটারকে দেওয়া নোটিশ।
- আপিলের ফলাফল।
কারও নাম বাদ দেওয়া বা নাম ফেরানো—দুই ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব সমান। ভোটার তালিকা “শুদ্ধ” করার নামে যদি অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে অস্বচ্ছ আপিল করা হয়, তাহলে সেটি সংশোধন নয়; সেটি নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করে।
রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগের বাইরে যেতে হবে
বিরোধী দলগুলি ঘটনাটিকে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট বলে বর্ণনা করেছে। বিজেপি অভিযোগগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
দুই পক্ষের বক্তব্যই রাজনৈতিক। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা কোনও রাজনৈতিক দলের দাবি বা পাল্টা-দাবির উপর নির্ভর করতে পারে না।
এই মুহূর্তে প্রয়োজন:
- স্বাধীন প্রযুক্তিগত অডিট।
- কমিশনের বৈঠকের নথি প্রকাশ।
- Form 6 পরিবর্তনের অনুমোদন-ফাইল প্রকাশ।
- ERONet ও ECINet-এর access log পরীক্ষা।
- পশ্চিমবঙ্গের ১৬.১০ লক্ষ আপিলের অনুমোদন-শৃঙ্খল প্রকাশ।
- গোয়ার ৯৭ জন ভোটারের ঘটনায় দায় নির্ধারণ।
- SIR-এ বাদ পড়া ও পুনর্বহাল হওয়া ভোটারদের পূর্ণ পরিসংখ্যান প্রকাশ।
এগুলি কোনও রাজনৈতিক দলের দাবি নয়। এগুলি একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী ব্যবস্থার ন্যূনতম শর্ত।
কমিশনের বক্তব্য যথেষ্ট নয়
নির্বাচন কমিশন বলেছে, সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত। কিন্তু এই দাবিকে বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে “সর্বসম্মতি”র নথি প্রকাশ করতে হবে।
কোন বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল?
কোন নোটে সান্ধু ও জোশীর আপত্তির উত্তর দেওয়া হয়েছিল?
Form 6 বদলানোর আগে পূর্ণাঙ্গ কমিশনের অনুমোদন কোথায়?
জোশীর প্রস্তাবিত অডিটের কী হল?
সান্ধু কেন লিখলেন, তিনি জানেন না তাঁর প্রস্তাবের উপর কী পদক্ষেপ হয়েছে?
রাজ্য আধিকারিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত ছিল না—এটি প্রমাণ করার জন্য কমিশন কি প্রযুক্তিগত অডিট প্রকাশ করবে?
গোয়ার ৯৭ জন ভোটারের নাম ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, তার উত্তর কোথায়?
একটি প্রাতিষ্ঠানিক বিবৃতি বলছে, “সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত।” কিন্তু নথিতে যদি দেখা যায়, দুই কমিশনার বারবার লিখছেন তাঁদের জানানো হয়নি, তাহলে সেই সাংঘর্ষিক অবস্থার ব্যাখ্যাও প্রতিষ্ঠানকেই দিতে হবে।
এখন যা করা দরকার
১. স্বাধীন প্রযুক্তিগত অডিট
ECINet ও ERONet-এর নিরাপত্তা পর্যালোচনা শুধু কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিভাগ দিয়ে করানো উচিত নয়। একটি স্বাধীন প্রযুক্তিগত দলকে পরীক্ষা করতে হবে:
- কে কোন ডেটা পরিবর্তন করতে পারে।
- ERO-র সিদ্ধান্ত কেউ override করতে পারে কি না।
- প্রতিটি পরিবর্তনের audit trail আছে কি না।
- মুছে ফেলা নাম পুনরুদ্ধার করা যায় কি না।
- কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের ক্ষমতা কতটা।
- রাজ্য ও জেলা আধিকারিকদের প্রবেশাধিকার বাস্তবে কী।
২. আইনগত অনুমোদন প্রকাশ
Form 6 পরিবর্তন, ভোটার ডেটা ব্যবস্থাপনা এবং SIR-এর প্রক্রিয়াগত নির্দেশাবলির অনুমোদন-ফাইল প্রকাশ করা উচিত।
আইনসম্মত সিদ্ধান্ত গোপন রাখার প্রয়োজন নেই।
৩. পশ্চিমবঙ্গের আপিলের স্বচ্ছতা
১৬.১০ লক্ষ আপিলের ক্ষেত্রে:
- কে আবেদন করেছে।
- কে অনুমোদন করেছে।
- কী কারণে করেছে।
- ভোটারকে জানানো হয়েছিল কি না।
এই তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
৪. ভুল হলে দ্রুত প্রতিকার
যে ভোটারের নাম সফটওয়্যার-ত্রুটি বা তথ্য-মিলের ভুলে বাদ পড়েছে, তাঁকে দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়ায় ঠেলে দেওয়া যাবে না।
প্রতিটি রাজ্যে দ্রুত পুনর্বহাল ব্যবস্থা থাকা উচিত।
৫. সংসদীয় ও বিচারবিভাগীয় নজরদারি
নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা রক্ষা করতে গিয়ে তাকে জবাবদিহির ঊর্ধ্বে রাখা যায় না। সংসদীয় কমিটি, সুপ্রিম কোর্ট এবং প্রয়োজনে একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা উচিত।
সম্পাদকীয় অবস্থান
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রয়োজনীয়। মৃত, স্থানান্তরিত, দ্বৈত বা অযোগ্য নাম বাদ দেওয়া নির্বাচন ব্যবস্থার স্বাভাবিক কাজ।
কিন্তু ভোটার তালিকা “শুদ্ধ” করার নামে এমন কোনও প্রক্রিয়া গ্রহণ করা যাবে না, যেখানে:
- সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারছেন না কেন তাঁদের নাম চিহ্নিত হয়েছে।
- সফটওয়্যার ভুল করলেও আধিকারিক তা সংশোধন করতে পারছেন না।
- আইনগত ফর্ম নিয়ম না বদলেই পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে।
- দুই নির্বাচন কমিশনার লিখিত আপত্তি জানিয়েও উত্তর পাচ্ছেন না।
- কোটি কোটি ভোটারের নামের ক্ষেত্রে আপিল ও পুনর্বহালের তথ্য অস্বচ্ছ থাকছে।
নির্বাচন কমিশনের কাজ শুধু সঠিক ভোটার তালিকা তৈরি করা নয়। তার কাজ হল এমন একটি প্রক্রিয়া তৈরি করা, যার উপর মানুষ আস্থা রাখতে পারেন।
আজ সেই আস্থাই প্রশ্নের মুখে।
এই বিতর্কে সত্যিকারের ক্ষতি কোনও একটি দলের হতে পারে, আবার কোনও নির্দিষ্ট নির্বাচনী ফলের সঙ্গেও এর যোগ প্রমাণিত নাও হতে পারে। কিন্তু একটি বিষয় ইতিমধ্যেই স্পষ্ট:
যে মুহূর্তে ভোটারের নাম একটি অডিট-অযোগ্য সফটওয়্যার, অস্বচ্ছ প্রশাসনিক নির্দেশ বা অনুমোদনহীন প্রক্রিয়ার হাতে পড়ে, সেই মুহূর্তে ভোটার তালিকা শুধু একটি সরকারি রেকর্ড থাকে না—তা গণতান্ত্রিক অধিকারের ঝুঁকিতে পরিণত হয়।
সুতরাং নির্বাচন কমিশনের উচিত রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াকে প্রত্যাখ্যান করে নথি প্রকাশ করা।
কারণ গণতন্ত্রে প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বাস করতে বলা যথেষ্ট নয়। প্রতিষ্ঠানকে এমনভাবে কাজ করতে হয়, যাতে তাকে বিশ্বাস করা যায়।
SIR-এর আগে এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ হল ভোটার তালিকা নয়—আস্থার তালিকা পুনর্গঠন করা।




Comments