অভিষেকের অফিসে বুলডোজার: তৃণমূলের 'দু নম্বর' নেতার কার্যালয়ে ভাঙচুর অভিযান


কলকাতা — শনিবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচতলা কার্যালয় ঘিরে ফেলল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এরপরই শুরু হয় বুলডোজার দিয়ে ভাঙার কাজ।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের দাবি, আমতলা-বারুইপুর রোডে অবস্থিত এই বহুতলটি বৈধ নির্মাণ-অনুমতি ছাড়াই তৈরি হয়েছিল — আর এই কারণকেই ভাঙার আইনি ভিত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে। শনিবার দুপুর থেকেই শুরু হয় ভাঙার প্রক্রিয়া, রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) নিরাপত্তায় পুরোদমে চলছিল বুলডোজার।
গোটা অভিযানে নিরাপত্তার যে মাত্রা দেখা গেল, তা থেকেই স্পষ্ট — প্রশাসন এই পদক্ষেপের প্রতিটি দিক অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সামলাচ্ছে। স্থানীয় বিডিও এবং বিএলআরও-র তত্ত্বাবধানে চলে ভাঙার কাজ, পাশে প্রস্তুত ছিল রাজ্য দমকল বিভাগের একটি দল। গোটা এলাকা গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে পুলিশের সংখ্যা — আমতলা মোড়ের কাছে রাস্তার অর্ধেকটাই তখন ব্যারিকেডে বন্ধ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিছক একজন সাধারণ নেতা নন। ৩৮ বছর বয়সি এই সাংসদ ডায়মন্ড হারবার থেকে নির্বাচিত, লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেতা, এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো — দীর্ঘদিন ধরেই যাঁকে তাঁর রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে রাজ্যের বুলডোজার তাঁরই দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্যটিকে নিছক 'নিয়মমাফিক পদক্ষেপ' বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন — বিশেষত এমন একটি রাজ্যে, যেখানে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ নতুন কিছু নয়, কিন্তু তার জেরে এমন বিশাল বাহিনী নামানো বিরল।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি। শনিবার দুপুরেও ভাঙার কাজ চলছিল পুরোদমে।




Comments