ফ্রান্সে ছাত্র বিক্ষোভ তীব্র, দেশজুড়ে স্কুল অবরুদ্ধ

৬ অক্টোবর ফ্রান্সজুড়ে হাইস্কুল পড়ুয়াদের বড়সড় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষক, পড়ুয়া ও অভিভাবকেরা রাস্তায় নামেন শিক্ষক-সংকট, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন এবং পর্যাপ্ত অর্থের অভাবের প্রতিবাদে।
প্যারিস, মার্সেই, লিয়ঁ, নঁত, রেন এবং তুলুজ-সহ একাধিক শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বদলি, শ্রেণিকক্ষের রক্ষণাবেক্ষণ, স্কুলের সময়সূচিতে পরিবর্তন এবং লাঞ্চ ব্রেক বাড়ানোর দাবি তোলেন পড়ুয়া ও শিক্ষা সংগঠনগুলি।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী, দেশজুড়ে বিক্ষোভে ২.৫ লক্ষের বেশি মানুষ অংশ নেন। আয়োজকদের দাবি ছিল অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৪.৫ লক্ষ। হাইস্কুল ছাত্র সংগঠনের দাবি, শত শত স্কুল অবরুদ্ধ বা বন্ধ ছিল এবং কিছু এলাকায় অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়।
বিক্ষোভের প্রান্তে কয়েকটি শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষও হয়। কোথাও কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কর্তৃপক্ষের দাবি, শত শত মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকারের হিসেবে ২১৫ জন পড়ুয়া, ৮৫ জন শিক্ষা কর্মী এবং ৭০০-র বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
প্যারিসের প্রান্তিক এলাকায় শুরু হওয়া এই আন্দোলন কয়েক সপ্তাহ ধরে চলার পর দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত ভিড়, শিক্ষক ঘাটতি, পুরনো পরিকাঠামো এবং সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার অবনতিই পড়ুয়াদের ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু মন্ত্রীদের পড়ুয়াদের দাবিগুলি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। শিক্ষক বদলি, স্কুলের সময়সূচি এবং পুরনো ভবন সংস্কারের মতো বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ফ্রান্সের আর্থিক চাপের মধ্যেই এই সংস্কারের জন্য অর্থ জোগাড় করা বড় চ্যালেঞ্জ।
ফরাসি সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ছাত্র আন্দোলন হিসেবে এই বিক্ষোভকে দেখা হচ্ছে। সরকার একদিকে হিংসা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে, অন্যদিকে পড়ুয়া, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছে।
সূত্র: The New York Times সূত্র। বিক্ষোভের সংখ্যা ও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি Reuters ও Associated Press-এর প্রতিবেদন।




Comments